বলিউড শাহেনশাহ অমিতাভ বচ্চন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গত ১৬ মে থেকে তিনি হাসপাতালে ভর্তি আছেন-এমন গুজবই ছড়িয়েছে সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের মাঝে। প্রথমে এ গুজব ছড়ায় বলিউডের আলোচিত্রী বিনোদন সাংবাদিক ভিকি লালওয়ানি। শুরুতে সামাজিক মাধ্যমে তিনি দাবি করেছিলেন— অভিনেতার পেটে সমস্যা দেখা দিয়েছে এবং ছেলে অভিষেক বচ্চন তাকে দেখতে হাসপাতালে গেছেন। এরপরই সামাজিক মাধ্যমে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু খুব দ্রুতই সেই দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
বয়স ৮৩ পেরোলেও বিগবির প্রতিটি উপস্থিতি, প্রতিটি পোস্ট কিংবা স্বাস্থ্যসংক্রান্ত ছোট খবরও মুহূর্তে আলোচনার জন্ম দেয়। মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতেও তেমনটাই ঘটল। সামাজিক মাধ্যমে হঠাৎ ছড়িয়ে পড়ে— অমিতাভ বচ্চন নাকি হাসপাতালে। খবরটি ছড়িয়ে পড়তেই উদ্বেগে পড়েন তার কোটি ভক্ত-অনুরাগী। নেটিজেনদের একাংশের প্রশ্ন— খবরটা কি আসলেই সত্যি! কতটা অসুস্থ অমিতাভ? কী হয়েছে তার?
তবে সকাল গড়াতেই সামনে আসে আসল তথ্য— অভিনেতা হাসপাতালে ভর্তি হননি বরং নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষা করিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। ভারতের একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, গত শনিবার মুম্বাইয়ের নানাবতি হাসপাতালে গিয়েছিলেন অমিতাভ বচ্চন। এটি ছিল তার নিয়মিত মাসিক স্বাস্থ্যপরীক্ষা। প্রয়োজনীয় কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা তাকে বাড়ি ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেন। তাকে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়নি।
বচ্চন পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, ‘অমিতাভ বচ্চন হাসপাতালে ভর্তি হননি। তিনি শুধু রুটিন চেকআপ করাতে গিয়েছিলেন। সব পরীক্ষা শেষে তিনি বাড়ি ফিরে আসেন।’
কেননা সর্বশেষ রোববারও বিগবিকে তার মুম্বাইয়ের বাসভবন ‘জলসা’র বাইরে ভক্ত-অনুরাগীদের শুভেচ্ছা জানাতে দেখা যায়। পরে তাকে নিজেই গাড়ি চালিয়ে এক স্থান থেকে আরেক স্থানে যেতে দেখা গেছে। ফলে হাসপাতালে ভর্তি থাকার খবরটি যে ভিত্তিহীন, সেটি স্পষ্ট হয়ে যায়।
আজ বুধবার (২০ মে) ভোরে সামাজিক মাধ্যমে নিজের ব্লগ একটি পোস্ট করেছেন অমিতাভ বচ্চন। সেই পোস্টে তার ভক্ত-অনুরাগীদের আশ্বস্ত করেছেন তিনি। বরাবরের মতো রসিক ভঙ্গিতেই শাহেনশাহ লিখেছেন— যখন ঈগল চুপ থাকে, তখন টিয়া পাখিরা বেশি কথা বলতে শুরু করে। আমি তো শান্তিতে বাজরার রুটি আর ভাজা সবজি খেয়ে নিলাম। আর এদিকে কাকের দল নানা কথা বলেই যাচ্ছে।
অমিতাভ বচ্চন আরও লিখেছেন, ‘রাত শেষ হয়ে যায়, কিন্তু ঘুম আসে না। চিকিৎসাবিজ্ঞান বলে একজন মানুষের অন্তত সাত ঘণ্টা ঘুমানো উচিত। কিন্তু কাজের ব্যস্ততায় সেটি সবসময় সম্ভব হয় না।’ ঘুম না এলে কী করেন, সেটিও জানিয়েছেন বিগবি। গভীর রাতে সেতার ও স্লাইড গিটারের ধীরলয়ের সংগীত তাকে শান্তি দেয়। সংগীত শুনেই অনেকটা সময় কাটান বলে জানান শাহেনশাহ।
তার এই পোস্ট দেখেই নেটিজেনরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। অনেক নেটিজেন বিগবির এ মন্তব্যটিকে এভাবে বর্ণনা করেছেন— যখন আসল শক্তিমান মানুষ চুপ থাকে, তখন নানা মানুষ নানা কথা বলতে শুরু করে, আমি তো স্বাভাবিকভাবেই খাওয়াদাওয়া করে আছি। অথচ গুজব ছড়ানো মানুষ কথা বলেই যাচ্ছে। অনেক নেটিজেন মন্তব্য করেছেন, ‘অমিতাভ আগের মতোই প্রাণবন্ত আছেন।’


